বোবায় ধরা মানে কি? এটি কি কোনো মানসিক অসুখ ? পরিত্রানের সহজ উপায় জেনে নিন

মানুষ জীবনের ৩৩% সময় অর্থাৎ ৬৫ বছরের একটি জীবনে প্রায় সাড়ে ২১ বছর মানুষ ঘুমিয়ে কাটায়। সুতরাং এটি অনস্বীকার্য যে ঘুম আমাদের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, আর স্বপ্ন মানুষের ‘ঘুমন্ত জীবনের’ অবিচ্ছেদ্দ বিষয়! তবে স্বপ্নের ধারনা মাত্র এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এর বিস্তৃতি, ব্যাপ্তি, প্রয়োজনীয়তা ও প্রভাব আমাদের বাকি ৬৭% জীবনেও ব্যাপকভাবে বিদ্যমান।
অনুভূতি যেমন হয় : মধ্যরাতে হঠাত্‍ ঘুম ভেঙে গেল। অনুভব করলেন, আপনার বুকের ওপর ভারী কিছু বসে আছে। এত ভারী কিছু যে ঠিকঠাক নিঃশ্বাসই নিতে পারছেন না আপনি। কেমন লাগবে তখন? নিশ্চয়ই খুব ভয় পাবেন! এটা একটা ভীতিকর পরিস্থিতিই বটে যখন টের পাবেন আপনি চাইলেও শরীরের কোনো অংশ নাড়াতে পারছেন না, এমনকি চিত্‍কারও করতে পারছেন না। নিজেকে এমন অসহায়ভাবে আবিষ্কার করলে ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। রীতিমত জীবন মরণের এক যুদ্ধ চলে ঐ সময়। মুখ দিয়ে যে কাউকে ডাকবেন সেই কাজটাও করতে পারবেন না।


কেন বোবায় ধরে : বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিসের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর অন্যতম কারণ হলো চাপের মধ্যে থাকা এবং যথেষ্ট পরিমাণে বিশ্রামের অভাব। অনিয়মিত ঘুমও এর আরেকটি কারণ। যখন ঘুমের এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে যাবার সময় শরীর সাবলীলভাবে নড়াচড়া করতে পারে না, তখনই মানুষ বোবা ধরা বা স্লিপিং প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়। এছাড়া আরও কিছু ব্যাপার বোবা ধরার কারণ হতে পারে। যেমন ঘুমের নির্দিষ্টতা না থাকা, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, ঘুমের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সমস্যা, হাত-পায়ের মাংসপেশিতে খিঁচ ধরা, অনিদ্রা, বিষণ্ণতা ইত্যাদি।

পরিত্রাণের উপায়:
বোবায় ধরা বা স্লিপিং প্যারালাইসিস থেকে বাঁচার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সহজ উপায় হলো ঘুমের নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা। এই সমস্যাটা সাময়িক। কিন্তু যদি এটা ঘন ঘন হতে থাকে এবং কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার জন্ম দেয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*